কোটা আন্দোলনে রাজধানীর সরকারি কবি নজরুল কলেজের দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক আইনজীবী।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রোববার মামলার আবেদন করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য নাসরিন বেগম। সূত্রাপুর থানার ওসিকে মামলাটিকে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, হাসিনা সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং পুলিশের কয়েকজন সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বাদীর অভিযোগ, কোটা আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই সূত্রাপুর থানার শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারী কলেজের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সে সময় শেখ হাসিনা ও তার প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ও পরিকল্পনায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। করা হয় গুলিও। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কবি নজরুল সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ইকরাম হোসেন কাউসার ও ওমর ফারুক।
এদিকে, জয়পুরহাটে কোটা আন্দোলনে কলেজছাত্র নজিবুল সরকার বিশালের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নজিবুলের বাবা মজিদুল সরকার রোববার দুপুরে আদালতে মামলার আবেদন করেন। সেটি আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করতে সদর থানাকে নির্দেশ দেন জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক আতিকুর রহমান।
এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ১৮ বছরের নজিবুল।
নাটোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় স্কুলছাত্র ইয়াছিনকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও নাটোর-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ ১১১ জনের নামে হয়েছে মামলা।
ইয়াছিনের বাবা ফজের আলী রোববার দুপুরে নাটোর থানায় মামলা করেন।
বাদীর অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট ছাত্রদের আন্দোলনের সময় ইয়াছিনকে নাটোর শহরের মাদরাসা মোড় থেকে মারধর করে নিয়ে যাওয়া হয় সাবেক এমপি শিমুলের বাড়িতে। পরদিন হাসিনা সরকার পতনের পর এমপি শিমুলের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে ৬ আগস্ট উদ্ধার করা হয় ইয়াছিনের মরদেহ।
কমেন্ট বক্স